প্যারিসে ম্যাক্রোঁ-এমবিএস হাই-ভোল্টেজ বৈঠক: জ্বালানি নিরাপত্তা, মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও মেগা চুক্তি

সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে ফ্রান্সে অবস্থান করছেন। সফরের দ্বিতীয় দিনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে একাধিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন তিনি। বৈশ্বিক অর্থনীতি, ভূ-রাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি সংকটের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে দুই শীর্ষ নেতার এই আলোচনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।

রবিবার সন্ধ্যায় প্যারিসে সৌদি আরবের বাইরে প্রথমবারের মতো আয়োজিত 'ই-স্পোর্টস ওয়ার্ল্ড কাপ'-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমবিএস তাঁর সফর শুরু করেন। সফরের মূল পর্বে স্বাস্থ্য, পরিবহন এবং জ্বালানি খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সে জাপানি অ্যানিমে সিরিজ 'ড্রাগন বল'-এর থিমভিত্তিক একটি বিশালাকার বিনোদন পার্ক নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ডিজনিল্যান্ডের মতো মেগা প্রজেক্ট হতে চলেছে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এই বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো হরমুজ প্রণালীকে এড়িয়ে বিকল্প জ্বালানি পথ তৈরি করা। সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। বিশ্ববাজারের এই অস্থিতিশীলতা এড়াতে নতুন পাইপলাইন ও বিকল্প সমুদ্রবন্দর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করছেন দুই নেতা। উল্লেখ্য, ফ্রান্স সৌদি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা।

এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, ফিলিস্তিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত, এবং সিরিয়া ও লেবাননের ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন এই বৈঠকের এজেন্ডায় শীর্ষে রয়েছে। সম্প্রতি তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাথে সৌদি আরবের স্বাক্ষরিত 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি'-র প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকটি নতুন মাত্র লাভ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের ওপর একচ্ছত্র নির্ভরতা কমিয়ে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বহুমুখী করার অংশ হিসেবেই রিয়াদ প্যারিসের সাথে সম্পর্ক আরও জোরদার করছে।

বর্তমানে ফ্রান্স ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ সাড়ে ৯ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এই সফরের মাধ্যমে ২০৩০ সালের 'রিয়াদ এক্সপো' এবং ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের মতো সৌদি আরবের বৈশ্বিক আয়োজনগুলোতে ফরাসি বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments