
দেশের জ্বালানি খাতে এক যুগান্তকারী মোড় ঘুরতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে 'ইস্টার্ন রিফাইনারি ইউনিট-২' (ইআরএল-২) প্রকল্প বাস্তবায়নে অবশেষে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়নের বড় বড় প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়ে এসেছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি)। 'মডার্নাইজেশন অ্যান্ড এক্সপ্যানশন অব ইস্টার্ন রিফাইনারি' শীর্ষক এই মেগা প্রকল্পে ১.০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ২৮০ কোটি টাকা) ঋণ দেবে বহুজাতিক এই উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, আইডিবির এই অর্থায়ন হবে অত্যন্ত কঠোর ইসলামিক শরিয়াহভিত্তিক 'ফরোয়ার্ড লিজ' বা 'রেন্ট-টু-ওন' (ভাড়ার পর মালিকানা) মডেলের আওতায়। চুক্তি অনুযায়ী, আইডিবি নিজেই রিফাইনারির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় করে সরকারকে ইজারা দেবে এবং ঋণের সম্পূর্ণ অর্থ শোধ হওয়ার পর এর চূড়ান্ত মালিকানা বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ১৫ বছরের মধ্যে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তবে অর্থছাড়ের ক্ষেত্রে ছয় মাস মেয়াদি সোফর (SOFR) বেঞ্চমার্কের ওপর ভিত্তি করে ভাসমান সুদের হার এবং কড়া পরিবেশগত ও আইনি শর্ত দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমা পালনে ব্যর্থ হলে অর্থায়ন বাতিলের ঝুঁকিও রয়েছে।
প্রকল্পটির কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৬৮ সালে চালু হওয়া চট্টগ্রামের গুপ্তখালের ইস্টার্ন রিফাইনারি বর্তমানে বছরে মাত্র ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করতে পারে। নতুন ইআরএল-২ ইউনিটটি চালু হলে দেশের বার্ষিক তেল পরিশোধন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়াবে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে। এর ফলে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬২ থেকে ৬৫ শতাংশ স্থানীয়ভাবেই মেটানো সম্ভব হবে। শুধু তাই নয়, সরাসরি অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি করে দেশে পরিশোধন করা হলে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৮ থেকে ১৯ ডলার সাশ্রয় হবে, যা দেশের মূলবান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ অনেকাংশে কমিয়ে দেবে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে প্রথম ইআরএল-২ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও গত এক দশকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, বারবার নকশা পরিবর্তন ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পটি থমকে ছিল। এমনকি বিগত সরকারের আমলে একটি বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠীর হাতবদলের চেষ্টার কারণেও প্রকল্পটির কাজ অনিশ্চয়তায় পড়ে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে পুনরায় উদ্যোগী হয় এবং ৩১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী জানান, ঋণচুক্তি সইয়ের সমস্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরের শুরুতেই এটি চূড়ান্ত রূপ নেবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, আইডিবির এই অর্থায়ন হবে অত্যন্ত কঠোর ইসলামিক শরিয়াহভিত্তিক 'ফরোয়ার্ড লিজ' বা 'রেন্ট-টু-ওন' (ভাড়ার পর মালিকানা) মডেলের আওতায়। চুক্তি অনুযায়ী, আইডিবি নিজেই রিফাইনারির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় করে সরকারকে ইজারা দেবে এবং ঋণের সম্পূর্ণ অর্থ শোধ হওয়ার পর এর চূড়ান্ত মালিকানা বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ১৫ বছরের মধ্যে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তবে অর্থছাড়ের ক্ষেত্রে ছয় মাস মেয়াদি সোফর (SOFR) বেঞ্চমার্কের ওপর ভিত্তি করে ভাসমান সুদের হার এবং কড়া পরিবেশগত ও আইনি শর্ত দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমা পালনে ব্যর্থ হলে অর্থায়ন বাতিলের ঝুঁকিও রয়েছে।
প্রকল্পটির কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৬৮ সালে চালু হওয়া চট্টগ্রামের গুপ্তখালের ইস্টার্ন রিফাইনারি বর্তমানে বছরে মাত্র ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করতে পারে। নতুন ইআরএল-২ ইউনিটটি চালু হলে দেশের বার্ষিক তেল পরিশোধন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়াবে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে। এর ফলে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬২ থেকে ৬৫ শতাংশ স্থানীয়ভাবেই মেটানো সম্ভব হবে। শুধু তাই নয়, সরাসরি অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি করে দেশে পরিশোধন করা হলে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৮ থেকে ১৯ ডলার সাশ্রয় হবে, যা দেশের মূলবান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ অনেকাংশে কমিয়ে দেবে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে প্রথম ইআরএল-২ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও গত এক দশকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, বারবার নকশা পরিবর্তন ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পটি থমকে ছিল। এমনকি বিগত সরকারের আমলে একটি বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠীর হাতবদলের চেষ্টার কারণেও প্রকল্পটির কাজ অনিশ্চয়তায় পড়ে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে পুনরায় উদ্যোগী হয় এবং ৩১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী জানান, ঋণচুক্তি সইয়ের সমস্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরের শুরুতেই এটি চূড়ান্ত রূপ নেবে।

0 Comments